ঢাকা , বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ , ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজও তারাবিতে মুখর হয়ে উঠে ১২০ বছরের ‘বাবা জি’ মসজিদ

আপলোড সময় : ০৪-০৩-২০২৬ ০৭:২৭:১৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৪-০৩-২০২৬ ০৭:২৭:১৭ অপরাহ্ন
আজও তারাবিতে মুখর হয়ে উঠে ১২০ বছরের ‘বাবা জি’ মসজিদ আজও তারাবিতে মুখর হয়ে উঠে ১২০ বছরের ‘বাবা জি’ মসজিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের লোয়ার দির জেলা। সেখানকার তিমারগারা এলাকায় সন্ধ্যা নামতেই শতাব্দীপ্রাচীন এক ঐতিহ্যের টানে মানুষের ঢল নামে। গন্তব্য- ১২০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক ‘বাবা জি’ মসজিদ। রমজান এলে এই মসজিদকে ঘিরে তৈরি হয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ, যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারাবির নামাজে অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।

১৮৯০-এর দশকে প্রভাবশালী পশতুন ইউসুফজাই গোত্রের ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মিয়ান গুল মহিউদ্দিন এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘বাবা জি’ নামে পরিচিত ছিলেন, যার নামানুসারেই এই উপাসনালয়টির নামকরণ। সাড়ে তিন ফুট পুরু পাথরের দেয়াল আর ১৭ ফুট উচ্চতার এই মসজিদটি কেবল একটি ইবাদতগাহ নয়, বরং এটি ওই অঞ্চলের স্থাপত্যশৈলীর এক জীবন্ত দলিল।

মসজিদটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর হাতে খোদাই করা কাঠের কারুকাজ। উনিশ শতকের শেষভাগে আধুনিক যানবাহনহীন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এই বিশাল বিশাল কাঠের বিম আনা হয়েছিল আপার দির থেকে নদীপথে ভাসিয়ে। পেশোয়ার ও মারদানের দক্ষ কারিগরদের ছেনি আর হাতুড়ির নিখুঁত ছোঁয়ায় তৈরি সেই কাঠের স্তম্ভ ও ছাদ আজও অম্লান।

রমজান মাসে বাবা জি মসজিদের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। মসজিদের খাদেম ৬২ বছর বয়সী নাকিব উল আবরারের মতে, এখানে তারাবির নামাজে কোরআন খতমের এক বিশেষ ঐতিহ্য রয়েছে। প্রতিদিন ১০ পারা করে তেলাওয়াত করে মাত্র ছয় দিনে দুই দফা খতম সম্পন্ন করা হয়। এই বিশেষ জামাতে অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন শত শত মুসল্লি।

অনেকের কাছে এই মসজিদে নামাজ পড়া কেবল ধর্মীয় কর্তব্য নয়, বরং পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ। ৫৯ বছর বয়সী নিয়মিত মুসল্লি বুরহান উদ্দিন জানান, "আমার দাদা-পরদাদারাও এখানে নামাজ পড়তেন। গত ৩৫-৪০ বছর ধরে আমিও এই ঐতিহ্যের অংশ হতে পেরে গর্বিত।"

আরেক প্রবীণ মুসল্লি ৭৫ বছর বয়সী সাঈদ উর রহমান বলেন, "আধুনিক অনেক মসজিদ এখন মার্বেল আর টাইলসে চকচক করে, কিন্তু এই পুরনো কাঠের কারুকাজের নিচে নামাজ পড়লে যে প্রশান্তি পাওয়া যায়, তা অন্য কোথাও মেলা ভার।"

সময়ের প্রয়োজনে মসজিদের আঙিনায় আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। টাইলস ও সিমেন্টের ব্যবহারে সম্প্রসারণ করা হয়েছে প্রাঙ্গণ, যেখানে এখন প্রায় ৮০০ মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন। তবে মূল হলঘরটি রাখা হয়েছে অপরিবর্তিত, যার বিশাল কাঠের দরজা খোলার শব্দ আজও মনে করিয়ে দেয় এর শতবর্ষী ঐতিহ্যের কথা।

তিমারগারার মানুষের কাছে বাবা জি মসজিদ কেবল একটি ইমারত নয়, এটি তাদের পূর্বপুরুষদের বিশ্বাস আর শৈল্পিক চেতনার এক অনন্য স্মারক।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : NewsUpload

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ